Islamic duas pray style. How to pray ?
আল্লাহ-তায়ালা বলেন –
ادْعُواْ رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً
إِنَّهُ لاَ يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ
অর্থ হল - তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাক, কাকুতি-মিনতি করে এবং সংগোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদেরকে পছন্দ করেন না। (আল-আরাফ, আয়াত-৫৫)
Call on your lord
(ALLAH) with humility and in private for ALLAH (lord) loveth not those who
trespass beyond bounds.
আল্লাহর দরবারে
কিভাবে দোয়া করতে হয় আল্লাহ তা শিখিয়েছেন । এখানে তাদ্বররু’আন দ্বারা অক্ষমতা,
বিনয় ও নম্রতাকে বোঝায় । আর খুফইয়াতুন দ্বারা একান্ত গোপনতাকে বোঝায় । তাহলে নিজের
অক্ষমতা, বিনয় ও নম্রতার এবং আকুলতার সাথে দোয়া করা ।
স্বীয় অক্ষমতা, দীনতা, হীনতা এবং বিনয় ও নম্রতাকে প্রকাশ করে
খোদার দরবারে নিজের অভাব-অনটনকে ব্যক্ত করা ।আর চুপি চুপি ও একান্ত সংগোপনে কোথাও দোয়া
করা উত্তম এবং সেই দোয়া কবুলও নিকটবর্তী হয় । যদিও আল্লাহ সব জায়গায় বান্দার প্রার্থনাকে
শুনেন । উচ্চস্বরেও ওদায়া করা যায় তবে তাতে রিয়া ও সুখ্যাতির আশংকা থাকে । এটা যার-তার
নিয়তের উপর নির্ভরশীল । আল্লাহ প্রাকাশ্য-অপ্রাকাশ্য সরব-নীরব সর্বাবস্থায় বান্দার
মোনাজাতকে বুঝতে পারেন । খায়বর যুদ্ধের একটি ঘটনা এমন হয়েছিল যে, সাহাবী কেরামগন যখন
উচুস্বরে আওয়াজ করছিলেন তখন দয়াল রাসূলু্ল্লাহ সালল্লাহু আলাইহে ওয়াল্লাম বলেন যে,
তোমরা এমন কোন বধির অথবা অনুপস্থিত কাউকে ডাকাডাকি করছ না যে, এত জোরে বলতে হবে । বরং
একজন নিকটবর্তী সত্তাকে সম্বোধন করছ মানে আল্লাহ-তায়ালাকেই । তাই সজোরে বলা অর্থহীন
। আমাদের ওলী-আল্লাহ গনদের জীবনীতিহাস পড়লে দেখতে পাই যে, উনারা অধিকাংশ সময় আল্লাহর
স্মরণে ও দোয়া দরূদে মশগুল থাকতেন অথচ কোন প্রকার আওয়াজ কেউ শুনতে পেতেন না । এমন কি
পুরো কোরআন শরীফ মুখস্থ করে ফেলতেন কেউ টেরও পেতেন না । অনেকে আধ্যাত্মিক জ্ঞানও অর্জন
করতেন এই দোয়া, দরূদ ও জিকির মশগুলের মাধ্যমে । তাঁদের দোয়ার খবর তাঁদের এবং আল্লাহর
মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত । মানূষের কাছে নিজের জ্ঞান-গরিমার কথা প্রকাশ করে বেড়াতেন না
। এমন অনেক ওলীই সারারাত ধরে নামাজ ও দোয়া-দরূদ পড়ে কাটিয়ে দিতেন অথচ গড়ের আগন্তুক
বা মেহমান থাকলে তারা কেউ বুঝতেই পেত না ।
হযরত হাসান বসরী (রহ.) বলেন, আমি এমন অনেককে দেখেছি যারা গোপনে
সম্পাদান করার মত কোন ইবাদত কারো কাছে প্রকাশ করতেন না । তাদের দোয়ার আওয়াজ অত্যন্ত
নীচু স্বরের হত ।
আর তাছাড়া আল্লাহ সীমা লংঘনকারীদের পছন্দ করেন না । চাই সেটা ইবাদত হোক আর চাই সেটা অন্য কোন কাজে ।
দোয়ায় সূশালংঘন এর ব্যাপারটি কয়েক প্রকার হতে পারে । এক নাম্বার
হল, লৌকিকতা অবলম্বন করা আর দুই হল দোয়ায় অনাবশ্যক শর্ত মুক্ত করে দেয়া । যেমন, বর্ণিত
আছে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) আনহু
স্বীয় পুত্রকে এভাবে দোয়া করতে দেখলেন : হে আল্লাহ ! আমি আপনার কাছে জান্নাতের
ডান দিকের শুভ্র রংঙ্গের প্রাসাদ কামনা করি । এটা দেখার পর তিনি পুত্রকে বারণ করলেন
যে, দোয়ায় এ ধরনের শর্ত আরোপ করা সীমালংঘনের নামান্তর । কোরআন ও হাদিসে তা নিষিদ্ধ
। (তাফসীরে মাজহারী) এবং তিন নাম্বার হল – সাধারণ মুসলমানদের জন্য বদদোয়া করা । এমন
বিষয় কামনা করা, যা সাধারণ মুসলমানদের জন্য ক্ষতিকর এবং এমনিভাবে দোয়ায় বিনা প্রয়োজনে
আওয়াজ উঁচু করাও একপ্রকার সীমা অতিক্রম করা হয় । (তাফসীরে মাজহারূল, আহকামূল কোরআন
)
একজন পল্লীবাসী একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে
আরজ করলেন হে আল্লাহর রাসূল ! আমাদের প্রভু কি আমাদের নিকটে আছেন না দূরে আছেন ? যদি
দূরে থাকেন তাহলে জোরে জোরে ডাকব আর যদি নিকটে থাকেন তাহলে চুপে চুপে ডাকব । এতে রাসূলুল্লাহ
সালল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম নীরব হয়ে যান । তখন এ আয়াতটি নাযীল হয় –
আরবীর বাংলা উচ্চারণ – (ওয়া ইযা- সাআলাকা ইবা-দী আন্নী ফাইন্নি
ক্বরীবুন উজীবু দা’ওয়াদাত দা-ই ইযা দা’আ-নী ফাল্ইয়াসতাজীবূলী ওয়াল ইউ’মিনূবী লা’আল্লাহুম্
ইয়ারশুদুন্)
অর্থ হল- আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস
করে, তখন তাদেরকে বলে দাও, নিশ্চয় আমি সন্নিকটবর্তী, যে কোন আহ্বানকারীর আহ্বানে আমি
সাড়া দিয়ে থাকি; সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমাকে বিশ্বাস করে তবেই তারা
সফলকাম হতে পারবে । (সুরা বাকারা)
0 comments:
Post a Comment